হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী দুই সরকারের উদাসীনতা ‘ক্ষমাহীন অপরাধ’ : প্রধানমন্ত্রী।

উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও উন্নত ল্যাবসহ আধুনিক চিকিৎসাসুবিধা এখনো রাজধানীকেন্দ্রিক; এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে জেলা ও উপজেলাভিত্তিক হাসপাতালের মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে কাজ চলছে, যা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
রাজওসমানী স্মৃতি মিলনায়ত-এ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহর ও গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য দূর করে সেবার বিকেন্দ্রীকরণকে বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ গড়াই সরকারের লক্ষ্য। এ সময় হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী দুই সরকারের উদাসীনতাকে ‘ক্ষমাহীন অপরাধ’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য ও পরিবাসরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্এম এ মুহিত, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।
সম্মেলনে উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসকদের কর্মদক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ ছয়জনকে ক্রেস্ট প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। তারা হলেন—ডা. মঞ্জুর আল মোর্শেদ চৌধুরী, ডা. শোভন কুমার বসাক, ডা. মজিবুর রহমান, ডা. সাজিদ হাসান সিদ্দিকী, ডা. সুমন কান্তি সাহা ও ডা. তাসনিম জুবায়ের।
মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের কার্যক্রমকে যুগোপযোগী করা, সরকারি নির্দেশনা প্রদান এবং সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যেই এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
চিকিৎসকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোগে-শোকে কাতর মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাদের মূল দায়িত্ব। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ও আন্তরিক ব্যবহার ওষুধের চেয়েও বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাই পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক গুণাবলি অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সরকারের স্বাস্থ্যনীতির মূল প্রতিপাদ্য—‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম’। আগাম প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে রোগের বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, আর এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাদের ভূমিকা অতি গুরুত্বপূর্ণ।