মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় জেল খাটা ইমামকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি এনসিপির।

ডিএনএ পরীক্ষায় কিশোরীর সন্তানের জৈবিক পিতা হিসেবে তার বড় ভাইয়ের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ফেনীর পরশুরামের আলোচিত ইমাম মোজাফফর আহমদ জুবায়ের–এর চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া, আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং ষড়যন্ত্রকারীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
শনিবার বিকেলে ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব (ধর্ম ও সম্প্রীতি বিষয়ক সম্পাদক) তারেক রেজা। এ সময় তিনি মোজাফফরের ঋণ পরিশোধ ও পুনর্বাসনের আশ্বাসও দেন।
সংবাদ সম্মেলনে তারেক রেজা বলেন, স্থানীয় মসজিদের ইমাম মোজাফফরকে পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল। কঠিন সেই সময়ে তার পাশে কাউকে পাওয়া যায়নি। নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও তিনি কারাভোগ করেছেন, সামাজিকভাবে অপমানিত হয়েছেন এবং আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমরা এনসিপির পক্ষ থেকে তার চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাই। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের কাছে তার সামাজিক মর্যাদাহানি ও আর্থিক ক্ষতির উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।”
এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও ফেনী জেলা আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম সৈকত বলেন, একজন নির্দোষ মানুষকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানো শুধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে অন্যায় নয়, এটি পুরো সমাজ ও ন্যায়বিচারের জন্য লজ্জাজনক ঘটনা।
তিনি বলেন, “সেই ইমামের সম্মান, পেশা ও স্বাভাবিক জীবনের ক্ষতি পূরণ হয়তো কখনো পুরোপুরি সম্ভব নয়। তবে আমরা চাই তিনি যেন সামাজিক মর্যাদা ও সম্মান নিয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।”
ভুক্তভোগী মোজাফফর আহমদ বলেন, “আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ হয়েও কারাভোগ করেছি। এ ঘটনায় সামাজিকভাবে অপমানিত হয়েছি, মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারিয়েছি। মামলার খরচ চালাতে বাড়ির পাশে থাকা জমিও বিক্রি করতে হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় বিষয়টি কাউকে বলতে পারেননি। এখন ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসায় মানুষ সত্য জানতে পারছে এবং তিনি কারাভোগ, সামাজিক মর্যাদাহানি ও আর্থিক ক্ষতির ন্যায়বিচার চান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক সূজা উদ্দিন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মুহাইমিন তাজিম, যুগ্ম সদস্য সচিব ফজলে এলাহী চৌধুরী সায়েম, যুব শক্তির জেলা আহ্বায়ক পারভেজ আহমেদ এবং ছাত্রশক্তির জেলা সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরমান হোসেন রাফি।
উল্লেখ্য, ফেনীর পরশুরামে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে এক মাস দুই দিন কারাভোগ করেন ইমাম মোজাফফর আহমদ। পরে ডিএনএ পরীক্ষায় তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, কিশোরীর ভূমিষ্ঠ সন্তানের জৈবিক পিতা তার আপন বড় ভাই। ভাইকে বাঁচাতে পরিকল্পিতভাবে ইমামকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।