
ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয়। রোববার চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে তাকে শপথ পড়ান রাজ্যের গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথন আরলেকার।
বিধানসভা নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্য পাওয়া বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম (টিভিকে) সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করার পর গভর্নরের অনুমতি পায়। শপথ অনুষ্ঠানে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম।
এবারের নির্বাচনে ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টি আসন জেতে টিভিকে। তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৮ আসন। পরে কংগ্রেস, ভিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচচি (ভিসিকে), সিপিআই, সিপিআইএম এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের পথ সুগম করেন বিজয়।
জোটের সমর্থন নিয়ে কয়েক দফা গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকের পর সরকার গঠনের সবুজ সংকেত পান তিনি। কংগ্রেসের ৫ জন, ভিসিকের ২ জন এবং সিপিআই, সিপিআইএম ও আইইউএমএলের দুইজন করে বিধায়কের সমর্থন দেখানো হয়।
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এটি একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ প্রায় ৬০ বছরের মধ্যে এই প্রথম ডিএমকে ও এআইএডিএমকে ছাড়া অন্য কোনো দল সরকার গঠন করল।
আগের ক্ষমতাসীন দ্রাবিড়া মুনেত্রা কাজাগম (ডিএমকে) এবারের নির্বাচনে ৫৯টি এবং অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড়া মুনেত্রা কাজাগম (এআইএডিএমকে) ৪৭টি আসন পায়।
রোববার বিজয়ের সঙ্গে তার মন্ত্রিসভার আরও নয় সদস্য শপথ নেন। তাদের মধ্যে সাবেক এআইএডিএমকে নেতা কেএ সেনগোতাইয়ানও রয়েছেন। এছাড়া আধাভ অর্জুনা, নির্মল কুমার, এন আনন্দ, রাজ মোহন, ড. টিকে প্রভু, অরুন রাজ, পি ভেঙ্কটারমন ও এস কীর্তনাও মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন।
তবে নতুন মন্ত্রিসভায় কে কোন দায়িত্ব পাচ্ছেন তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, পরবর্তীতে জোটসঙ্গীদের মধ্য থেকেও কয়েকজনকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হতে পারে।
নতুন সরকারকে আগামী বুধবারের আগেই বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে হবে।