চট্টগ্রামের চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টায় রণক্ষেত্রে : অভিযুক্তকে গ্রেফতার, পুলিশের গুলিতে দুই সাংবাদিক আহত।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:
চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো এলাকা। অভিযুক্ত আসামিকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিতে শত শত বিক্ষুব্ধ জনতা সড়ক অবরোধ করে তুমুল বিক্ষোভ দেখিয়েছে।
এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের ছোড়া গুলিতে দুই সংবাদকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেলে চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকার একটি ডেকোরেশনের দোকানের কর্মচারী চার বছরের এক শিশুকে চকোলেটের লোভ দেখিয়ে ভেতরে ডেকে নেয়। পরে দোকানের সাটার নামিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। শিশুটির চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত কর্মচারীকে একটি ভবনে আটকে রাখে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে শত শত ক্ষুব্ধ জনতা ওই ভবনটি ঘেরাও করে।
খবর পেয়ে বাকলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে উত্তেজিত জনতা আসামিকে নিজেদের হাতে তুলে নিয়ে গণপিটুনি দেওয়ার দাবিতে পুলিশকে বাধা দেয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা সড়ক অবরোধ করে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। পুলিশ আসামিকে নিয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
পরিস্থিতি চরম বেগতিক দেখে পুলিশ অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হতে এবং জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে শটগানের গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের ছোড়া ছররা গুলিতে ঘটনাস্থলেই দুই সংবাদকর্মী গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহত সাংবাদিকদের শরীরে একাধিক গুলির আঘাত রবর্তমান পরিস্থিতি ও মামলা
অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে এবং ব্যাপক লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েবাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, "আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। উত্তেজিত জনতা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করায় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অ্যাকশনে যেতে বাধ্য হয়।
শিশুটিকে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের প্রকৃয়া চলছে।
ছে।