সম্প্রতি উচ্ছেদ অভিযান হওয়া কালশি বস্তিতে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ছাই, আগুন নিয়ন্ত্রণে।

রাজধানীর কালশী বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস। সোমবার (২৫ মে) রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার।
ঘटनাস্থলে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগার খবর আসে। খবর পেয়ে ৭টা ৩২ মিনিটে প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু করে। পরে আগুনের ভয়াবহতা বেড়ে যাওয়ায় পর্যায়ক্রমে আরও ইউনিট যুক্ত করা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের মোট ১৫টি ইউনিট, ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার, স্থানীয় বাসিন্দা, স্বেচ্ছাসেবক, পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, বস্তির ভেতরের রাস্তাগুলো অত্যন্ত সরু হওয়ায় অগ্নিনির্বাপণ গাড়িগুলো আগুনের মূলস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। এছাড়া আশপাশে কোনো পুকুর, জলাশয় বা হাইড্রেন্ট না থাকায় পানি সংগ্রহেও বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়। এ কারণে ১৫টি বিশেষ পানিবাহী গাড়ি এনে আগুন নেভানোর কাজ চালাতে হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বস্তির ভেতরে ভাঙারি, কাগজ, কাপড় ও প্লাস্টিকজাত দাহ্য সামগ্রীর দোকান থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে বৃষ্টির সময় বাতাসের তীব্রতাও আগুনের বিস্তারে ভূমিকা রাখে।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, কালশী বস্তিতে প্রায় এক হাজার ২০০ ঘর ও দোকান রয়েছে এবং সেখানে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার মানুষের বসবাস। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা নিখোঁজের তথ্য পাওয়া যায়নি।
আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। এ ঘটনায় কোনো নাশকতা বা সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার বলেন, বিষয়টি তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। আগুনের কারণ অনুসন্ধানে শিগগিরই তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।