আরাফার দিনের রোজার মাধ্যমে আল্লাহ পূর্বের এক বছর ও পরের এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আরাফার দিনের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন:
"আমি আল্লাহর কাছে আশা রাখি, তিনি আরাফার দিনের রোজার মাধ্যমে পূর্বের এক বছর ও পরের এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।" (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬২)
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক বলেন, আরাফার রোজার ফজিলত মূলত হাজিদের বাইরে সাধারণ মুসলমানদের জন্য প্রযোজ্য। এই রোজা আরাফাতের ময়দানে হাজিদের অবস্থানের সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; বরং ৯ জিলহজ তারিখের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই যে দেশে যখন ৯ জিলহজ হবে, সেদিনই আরাফার রোজা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, পবিত্র কোরআন ও হাদিসে জিলহজের প্রথম ১০ দিনকে বছরের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সময় হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণিত এক হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, আল্লাহর কাছে জিলহজের প্রথম ১০ দিনের নেক আমলের চেয়ে প্রিয় অন্য কোনো দিনের আমল নেই।
মুফতি আব্দুল মালেকের ভাষ্য, ১ জিলহজ থেকে ৯ জিলহজ পর্যন্ত নফল রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। তবে ১০ জিলহজ, অর্থাৎ ঈদের দিন রোজা রাখা হারাম। কেউ চাইলে পুরো নয় দিন রোজা রাখতে পারেন, আবার সুবিধা অনুযায়ী কিছু দিনও রাখতে পারেন। আর ৯ জিলহজের রোজা নিয়ে কারও দ্বিধা থাকলে তিনি ৮ জিলহজসহ মিলিয়ে রোজা রাখতে পারেন।
তিনি মুসল্লিদের উদ্দেশে আরও বলেন, শুধু রোজাই নয়, জিলহজের প্রথম ১০ রাতও বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগিতে কাটানো উচিত। কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ শরিফ, ইস্তেগফার, তাহাজ্জুদ, নফল নামাজ ও দান-সদকার মাধ্যমে এই সময়কে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
হজ পালনকারীদের জন্য আরাফার দিনের রোজা সুন্নত নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক। তিনি বলেন, হাজিদের জন্য সুন্নত হলো আরাফার দিন রোজা না রাখা, যাতে তারা পূর্ণ শক্তি নিয়ে হজের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলো আদায় করতে পারেন।
শুক্রবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ–এ জুমার বয়ানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, কোনো হজ পালনকারী যদি মনে করেন যে রোজা রাখলে তার শারীরিক সমস্যা হবে না এবং হজের অন্যান্য দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারবেন, তাহলে তার জন্য রোজা রাখা জায়েজ। তবে সুন্নত অনুযায়ী হাজিদের জন্য রোজা না রাখাই উত্তম।
মুফতি আব্দুল মালেক বলেন, বিদায় হজের সময় আরাফাতের ময়দানে নবী করিম (সা.) রোজা রেখেছিলেন কি না— এ নিয়ে সাহাবিদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছিল। পরে রসুলুল্লাহর (সা.) সামনে এক পেয়ালা দুধ আনা হলে তিনি সবার সামনে তা পান করেন। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, তিনি আরাফাতের দিন রোজা অবস্থায় ছিলেন না। তিনি উল্লেখ করেন, এ হাদিসটি সহিহ বুখারি–তে সংকলিত হয়েছে।