সর্বশেষ
‘দাদু আসছে’—ডাকে সাড়া দিয়ে কোমরসমান পানিতে নেমে বন্যার্তদের পাশে ডা. শফিকুর রহমানময়মনসিংহে শিশু ধর্ষণ ও হত‍্যা মামলায় ২৪ দিনে রায়, ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড।সূরা বাকারার ২৯নং আয়াত মেনে পরিবেশ ও সব সৃষ্টির যত্ন নেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর।কক্সবাজারে ভয়াবহ বন্যা, পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ; পাহাড়ধসে প্রাণ গেল দুই শিশুরসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোরআন শিক্ষক নিয়োগের দাবি সংসদেবিএনপি জুলাইয়ের চেতনাকে ‘দুধভাত’ বানাতে চায়: মামুনুল হকশনিবার ফের প্রকাশ্যে গণনা হবে শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকাওয়ারিশদের কাছে হস্তান্তর হচ্ছে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার, সরে দাঁড়ালেন জাবের ও জুমা‘দাদু আসছে’—ডাকে সাড়া দিয়ে কোমরসমান পানিতে নেমে বন্যার্তদের পাশে ডা. শফিকুর রহমানময়মনসিংহে শিশু ধর্ষণ ও হত‍্যা মামলায় ২৪ দিনে রায়, ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড।সূরা বাকারার ২৯নং আয়াত মেনে পরিবেশ ও সব সৃষ্টির যত্ন নেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর।কক্সবাজারে ভয়াবহ বন্যা, পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ; পাহাড়ধসে প্রাণ গেল দুই শিশুরসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোরআন শিক্ষক নিয়োগের দাবি সংসদেবিএনপি জুলাইয়ের চেতনাকে ‘দুধভাত’ বানাতে চায়: মামুনুল হকশনিবার ফের প্রকাশ্যে গণনা হবে শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকাওয়ারিশদের কাছে হস্তান্তর হচ্ছে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার, সরে দাঁড়ালেন জাবের ও জুমা
Live Bangla Logo
নিউজ
পড়া হচ্ছে...

‘দাদু আসছে’—ডাকে সাড়া দিয়ে কোমরসমান পানিতে নেমে বন্যার্তদের পাশে ডা. শফিকুর রহমান

প্রকাশিত: ১০ জুলাই, ২০২৬
‘দাদু আসছে’—ডাকে সাড়া দিয়ে কোমরসমান পানিতে নেমে বন্যার্তদের পাশে ডা. শফিকুর রহমান


চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বন্যাকবলিত গুনাগরি এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান-কে ঘিরে ব্যতিক্রমী এক দৃশ্যের অবতারণা হয়। শুক্রবার শখালীর গুনাগরি এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডে পৌঁছাতেই চারদিকে ভেসে আসে একটাই ডাক—“দাদু আসছে… দাদু আসছে…”


স্থানীয়দের ভাষ্য, নির্বাচনের আগ থেকেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া “দাদু” সম্বোধন এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। তার গাড়ি এলাকায় প্রবেশ করতেই কেউ ঘরের বারান্দা থেকে, কেউ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র থেকে, আবার কেউ কোমরসমান পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে অন্যদের খবর দিতে থাকেন। শিশু থেকে বয়স্ক—সবাই রাস্তার পাশে ভিড় করেন তাকে একনজর দেখতে।

গাড়ি থেকে নেমে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার পর ডা. শফিকুর রহমান লাবুর দোকানের পাশে স্থাপিত একটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে যান।


সেখানে তিন দিন ধরে আশ্রয় নেওয়া শতাধিক পরিবারের হাতে নগদ অর্থ ও ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন।

ত্রাণ বিতরণের পর তিনি সেখানেই থেমে থাকেননি। যেসব বাড়িতে পানি ঢুকে মানুষ আটকা পড়েছেন, সেসব বাড়িতে নিজেই গিয়ে খোঁজখবর নেন। পাঞ্জাবির নিচের অংশ গুটিয়ে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে একের পর এক বাড়িতে পৌঁছে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের সঙ্গে কথা বলেন। কারও হাতে সহায়তা তুলে দেন, আবার কারও কাঁধে হাত রেখে সাহস জোগান।


স্থানীয় বাসিন্দা আহমেদ হোসেন বলেন, “তিন দিন ধরে আমরা পানির মধ্যে আছি। অনেকেই এসেছে, ছবি তুলে চলে গেছে। কিন্তু উনি আমাদের ঘরের সামনে পর্যন্ত এসে খোঁজ নিয়েছেন।”

লাবুর দোকানের দ্বিতীয় তলায় আশ্রয় নেওয়া ফারাছা বেগম বলেন, “আমাদের ঘরের চাল পর্যন্ত পানি। আমরা শুধু প্রাণ নিয়ে বের হয়েছি। উনি এসে আমাদের কথা শুনেছেন, সাহায্য দিয়েছেন। এতে মনে হচ্ছে কেউ অন্তত আমাদের কথা ভাবছে।”


স্থানীয় তরুণ রুবেল হোসেনের ভাষ্য, “মানুষ তাকে ‘দাদু’ বলে ডাকে। আজ দেখলাম, ডাক শুনে তিনি মানুষের কাছেই চলে গেলেন। নিরাপদ জায়গায় দাঁড়িয়ে ত্রাণ দিয়ে ফিরে যাননি।”

একই আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কিরণ বালা জলদাস বলেন, “আমার সঙ্গে ছোট নাতি আছে, আবার ২০ দিনের একটি শিশুও আছে। উনি এসে বাচ্চাদের খোঁজ নিয়েছেন। এই সময় কেউ পাশে দাঁড়ালে সাহস পাওয়া যায়।”


স্থানীয়দের দাবি, গুনাগরির অন্তত ৩০০টি বাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক পরিবার তিন দিন ধরে ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। কেউ স্কুলে, কেউ দোকানের দোতলায়, আবার কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ।


ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমি এখানে রাজনীতি করতে আসিনি। বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছি। চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিজের চোখে দেখতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কথা শুনতেই এসেছি।”

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিরোধী দল বিষয়টি উত্থাপন করেছে এবং সরকারের পক্ষ থেকেও ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।


ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “মানুষের দুর্ভোগ কাগজে-কলমে বোঝা যায় না। মাঠে এসে না দেখলে এই কষ্ট অনুভব করা সম্ভব নয়। সরকারের উচিত দ্রুত উদ্ধার, পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা।”

সাম্প্রতিক বন্যা, পাহাড়ধস ও অন্যান্য দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণ করে তিনি নিহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং মহান আল্লাহর কাছে তাদের মাগফিরাত কামনা করেন।


বক্তব্য শেষ করেও তিনি আবার পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের দিকে এগিয়ে যান। কেউ করমর্দন করতে চান, কেউ ছবি তুলতে চান, আবার কেউ নিজের ক্ষয়ক্ষতির কথা জানাতে চান। আর পেছন থেকে তখনও ভেসে আসছিল একটাই ডাক—“দাদু আসছে… দাদু আসছে…”।