দ্বিতীয়বারের মতো আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।

রেকর্ড সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে আবারও ক্ষমতায় ফিরেছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। এর মধ্য দিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। এই জয় শুধু আসামে বিজেপির অবস্থান আরও শক্তিশালী করেনি, বরং উত্তর-পূর্ব ভারতে দলটির সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা হিসেবেও হিমন্তের অবস্থান আরও দৃঢ় করেছে।
সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, আসামের গভর্নর লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্য মঙ্গলবার (১২ মে) এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে শপথবাক্য পাঠ করান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংসহ বিজেপির শীর্ষ নেতারা।
এদিন হিমন্তের সঙ্গে আরও চারজন মন্ত্রী শপথ নেন। তারা হলেন বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা রামেশ্বর তেলি ও অজন্তা নেওগ, আসাম গণ পরিষদের (এজিপি) সভাপতি অতুল বরা এবং বোদোল্যান্ড পিপলস ফ্রন্টের (বিপিএফ) বিধায়ক চরণ বরো।
২০২১ সালে সর্বানন্দ সোনোয়াল–এর স্থলাভিষিক্ত হয়ে প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। এবার টানা দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নিয়ে তিনি আসামের ইতিহাসে প্রথম অ-কংগ্রেস নেতা হিসেবে পরপর দুইবার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার রেকর্ড গড়লেন।
এছাড়া ২০১৬ সালে প্রথমবার সরকার গঠনের পর এবার নিয়ে টানা তৃতীয়বার আসামে ক্ষমতায় এলো বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আসাম বিধানসভা নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে এনডিএ। ১২৬ সদস্যের বিধানসভায় জোটটি পেয়েছে ১০২টি আসন। এর মধ্যে বিজেপি একাই জিতেছে ৮২টি আসন। আসামে দলটির ইতিহাসে এটাই প্রথমবারের মতো একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা। জোটসঙ্গী এজিপি ও বিপিএফ পেয়েছে ১০টি করে আসন।
এই বড় জয় উত্তর-পূর্ব ভারতে বিজেপির সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে হিমন্তের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। ২০২১ সালে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে তিনি উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিজেপির বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।
এদিকে নতুন সরকারের প্রথম ১০০ দিনের অগ্রাধিকারও শিগগির ঘোষণা করতে পারেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। ধারণা করা হচ্ছে, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ, কল্যাণমূলক কর্মসূচি, ভূমি সংস্কার এবং আদিবাসী অধিকার ইস্যুগুলো গুরুত্ব পাবে।
অন্যদিকে শপথ অনুষ্ঠানকে শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চে পরিণত করেছে বিজেপি। তবে বিরোধী দল কংগ্রেস এই অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি। আসাম প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ অভিযোগ করেন, সাংবিধানিক একটি অনুষ্ঠানকে ‘রাজনৈতিক প্রদর্শনীতে’ পরিণত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সাংবিধানিক একটি অনুষ্ঠানকে ব্যয়বহুল রাজনৈতিক সমাবেশে রূপ দেয়াকে আমরা সমর্থন করতে পারি না।’
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক নির্বাচনে ১২৬ সদস্যের আসাম বিধানসভায় কংগ্রেস পেয়েছে ১৯টি আসন।