
শায়খ আহমাদুল্লাহ সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় ঘটে যাওয়া যৌন নিপীড়নের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যা ৬টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, আবাসিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নানা ধরনের অনাচারের ঘটনা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বিশেষ করে মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়নের মতো ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি ২০১৯ সালেই একটি লিখিত সুপারিশমালা প্রকাশ করেছিলেন এবং বর্তমানে হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে অবস্থান করায় বিস্তারিত কথা বলার সুযোগ না থাকলেও দেশে ফিরে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত প্রস্তাবনা ও কার্যক্রম হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে ২০১৯ সালের ৬ জুলাই ‘মসজিদ-মাদ্রাসায় যৌন হয়রানির অভিযোগ: কয়েকটি পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ’ শিরোনামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনা বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন।
ওই পোস্টে তিনি বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা ‘হুজুর’রাও মানুষ, তাই তাদের মধ্যেও ব্যতিক্রমী অপরাধ ঘটতে পারে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু গণমাধ্যম ইসলামি লেবাসধারীদের নেতিবাচক খবরকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করে থাকে। তবে এরপরও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে যৌন অনিয়মের ঘটনা বাড়ছে—এ বিষয়টি অস্বীকারের সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সমস্যা সমাধানে তিনি কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—মসজিদ ও মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে বিবাহিত ও বয়স্কদের অগ্রাধিকার দেওয়া, আবাসিক প্রতিষ্ঠানে সিসিটিভি ক্যামেরা ও নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করা, ছাত্রদের জন্য পৃথক খাট বা বেডের ব্যবস্থা রাখা এবং শ্রেণিকক্ষ ও আবাসন আলাদা রাখা।
এ ছাড়া মহিলা মাদ্রাসায় পুরুষ শিক্ষক বা স্টাফ নিয়োগ না দেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি। তার মতে, অর্থনৈতিক সক্ষমতা না থাকলে কোনো প্রতিষ্ঠানের আবাসিক ব্যবস্থা পরিচালনা করা উচিত নয়।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, মাদ্রাসা মানুষের নীতি ও আদর্শের অন্যতম আশ্রয়স্থল। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গেলে মুসলিম সমাজের ভরসার জায়গাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।