ড. ইউনূসের ৭ সদস্যের কিচেন কেবিনেটে সব সিদ্ধান্ত হতো: সাবেক উপদেষ্টা।

অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো একটি ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ থেকেই আসত বলে দাবি করেছেন সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাত সদস্যের এই অনানুষ্ঠানিক গ্রুপ প্রতি মঙ্গলবার বৈঠক করত এবং সেখানেই নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো।
সোমবার দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তার মন্ত্রণালয়ের ওপর একাধিক উপদেষ্টার প্রভাব ছিল। এ কারণে তিনি কয়েকবার পদত্যাগের সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তাকে থেকে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়।
তৌহিদ হোসেন বলেন, “তাদের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা ছিল না। তারপরও তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হতো, কারণ উচ্চ পর্যায়ে সেই মতামতের মূল্য ছিল। আমি তিনবার সরে আসার চিন্তা করেছি। কিন্তু তারা বলেছে, এতে সরকারের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হবে।”
নিজের প্রত্যাশার বড় অংশ পূরণ হয়নি বলেও মন্তব্য করেন সাবেক এই উপদেষ্টা। তিনি জানান, একবার যমুনায় অনুষ্ঠিত ‘কিচেন ক্যাবিনেট’-এর একটি বৈঠকে তাকে অংশ নিতে হয়েছিল। পরে তিনি জানতে পারেন, প্রতি মঙ্গলবার নিয়মিত এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতো।
তার ভাষায়, “শোনা যেত, সিদ্ধান্ত নেয় কেউ কেউ। আমার কানেও এসব কথা আসত। কিন্তু এর বাইরে আসলে আমার জানা ছিল না যে, নিয়মিত বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো একটি গ্রুপ ছিল।”
সাক্ষাৎকারে ভোটের মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তির বিষয়েও কথা বলেন তৌহিদ হোসেন। তিনি দাবি করেন, ওই চুক্তির সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।
তিনি বলেন, “এতে যুক্ত ছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। হয়তো কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল। না হলে বিষয়টি নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়াই যথাযথ হতো।”