লক্ষ্মীপুরে দুগ্ধপোষ্য শিশুসহ মা কারাগারে, গেইটের সামনে কাঁদছে ২ শিশু শিক্ষার্থী ।

লক্ষ্মীপুরে মারামারির এক মামলায় আড়াই বছরের দুগ্ধপোষ্য শিশুসহ ফারহানা আক্তার শিল্পি নামে এক নারীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ ঘটনায় জেলা কারাগারের সামনে স্কুলড্রেস পরা দুই শিশুর কান্নার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সোমবার (১১ মে) বিকেলে লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারের ফটকে এ হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যায়।
সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত সদরের পেশকার দেলোয়ার হোসেন জানান, সিআর-৫৬৫ মামলায় আসামি ফারহানা আক্তার শিল্পি ও জহির উদ্দিনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক শাহ জামাল। পরে বিকেলে আড়াই বছরের শিশু সিয়ামকে সঙ্গে নিয়েই শিল্পিকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার নুর মোহাম্মদ সোহেল।
কারাগারে যাওয়া শিল্পির আরও দুই সন্তান রয়েছে—পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিপন হোসেন (১০) এবং দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী তামান্না আক্তার (৮)। তারা শহীদ স্মৃতি আদর্শ একাডেমি–এর শিক্ষার্থী। বর্তমানে তাদের পরীক্ষা চলমান।
বিকেলে মায়ের প্রিজন ভ্যান কারাগারে পৌঁছালে দুই ভাইবোনকে স্কুলড্রেস পরা অবস্থায় জেলগেটের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদতে দেখা যায়। এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করে ক্ষোভ জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী মহসিন কবির স্বপন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৫ এপ্রিল প্রতিবেশী মাহাতাব উদ্দিন ভূঁইয়ার ওপর হামলার অভিযোগে শিল্পিসহ ১০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। বাদীর দাবি ছিল, শিল্পি লোহার রড দিয়ে আঘাত করায় তার মাথার হাড় ভেঙে মগজ বের হয়ে গেছে।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী রাকিবুল হাসান তামিম দাবি করেন, হাসপাতালের মেডিকেল সার্টিফিকেটে আঘাতকে ‘সিম্পল’ বা সাধারণ জখম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার ভাষ্য, সাধারণ জখমের ঘটনায় জামিনযোগ্য মামলায় দুগ্ধপোষ্য শিশুসহ এক নারীকে কারাগারে পাঠানো অত্যন্ত দুঃখজনক।
মামলার বাদী মাহাতাব উদ্দিন ভূঁইয়া লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাহাপুর এলাকার বাসিন্দা। আসামি শিল্পি একই এলাকার ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী।
বর্তমানে আড়াই বছরের শিশু সিয়াম মায়ের সঙ্গে কারাগারে থাকলেও বাইরে থাকা দুই শিশুর পড়াশোনা ও নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।